আইলা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র উপকূলে নির্মিত উপকুলীয় বাঁধ ও পোল্ডারসমূহের অধিকাংশ বিগত শতাব্দীর ’৬০ ও ’৭০ দশকে নির্মিত হওয়ায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের অপ্রতুলতার কারণে ঘুর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছাস প্রতিরোধে উপকুলীয় বাঁধসমূহ পর্যাপ্ত উচ্চতা সম্পন্ন নয় এবং বিদ্যমান ঝষড়ঢ়ব নকশা অনুযায়ী নয়। এছাড়া এসব বাঁধে অবৈধ বসতি এবং বিভিন্ন স্থানে চিংড় চাষের প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানায় যত্রতত্র পাইপ ইত্যাদি স্থাপন করে বাঁধের স্থায়ীত্ব ভঙ্গুর করা হয়েছে। ফলে পুনঃ পুনঃ সামুদ্রিক জলোচ্ছাস ও ঘূর্ণিঝড়ে উপকুলীয় এলাকায় জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় আইলায় ক্ষয়ক্ষতি ঃ
বিগত ২৫-০৫-০৯ তারিখে সংঘটিত ঘুর্ণিঝড় ‘আইলায়’ উপকূলীয় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবকাঠামোসমূহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস এর পর পরই পাউবোর মাঠ দপ্তরের অবকাঠামোসমূহের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করার নিমিত্ত বাপাউবো কর্তৃক ৩টি কমিটি গঠন করা হয়। পাউবো’র ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামোসমূহ কমিটিত্রয় কর্তৃক বিদ্যমান নক্সা ও স্পেসিফিকেশন মোতাবেক পুনর্বাসন ব্যয় নিরূপন করা হয় ৬০০.০০ কোটি টাকা।
নিরুপিত ক্ষয়ক্ষতির  সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ ঃ
   (লক্ষ টাকায় )
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাক্কলিত ব্যয়
অবকাঠামো পূর্ণ
(কিমি/সংখ্যা)আংশিক (কিমি/সংখ্যা)
বাঁধ ২৩৭.০০ কিমি ১৫৫৭.০০ কিমি ৩১৯৩৬.০০
পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (স্লুইস/রেগুলেটর ইত্যাদি) ৪১টি ৩২১টি ৬৯৩৮.০০
প্রতিরক্ষামূলক কাজ ২০.০০ কিমি ৩৩.০০ কিমি ১৯১৯৬.০০
অন্যান্য অবকাঠামো ৫৯টি ৯টি ১৮০৪.০০
মোট ঃ     ৫৯৮৭৪.০০
(প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)
‘আইলায়’ ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো পুনর্বাসন কার্যক্রম
ক। জরুরী কার্যক্রম ঃ
বাপাউবো ঘূর্ণিঝড় অব্যাবহিত পর পরই ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে প্রাপ্ত ২৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য এবং ৪১.০০ কোটি টাকা বরাদ্দে জরুরী ভিত্তিতে ব্রীচ ক্লোজিং, রিং বাঁধ ও স্লুইস/রেগুলেটরের গেইট মেরামত ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নেয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাসমূহে লবনাক্ততা অনুপ্রবেশ বন্ধসহ বিদ্যমান ফসলাদি ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। উলে­খ্য, জুন ২০০৯ পর্যন্ত এ জরুরী কাজে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য ব্যতিত ৩৩.৬১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এতে করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থ ৪৭টি পোল্ডারের মধ্যে ৪১টি পোল্ডার লোনা পানি মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
খ।  মধ্যমেয়াদী কার্যক্রম
১। ২০০৯-১০ অর্থ বছরের অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতে কার্যক্রম ঃ
২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের মোট বরাদ্দ ২৮০.০০ কোটি টাকা থেকে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ অতি ঝূঁকিপূর্ণ অবকাঠামোসমূহ পুনর্বাসনের নিমিত্ত ১০০.০০ কোট টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। উক্ত বরাদ্দ থেকে ফরিদপুর জোনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ৭৪.৩৮ কোটি টাকা এবং বরিশাল জোনে ২৫.৬২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ফরিদপুর জোনে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় বিভিন্ন পোল্ডারের অতিঝূঁকিপূর্ণ অবকাঠামো (ক্লোজার, রিংডাইক, ব্রীচ ক্লোজিং ইত্যাদি) পুনর্বাসন কাজ উলে­খিত বরাদ্দ থেকে দ্রুত এগিয়ে চলছে (বিস্তারিত পৃষ্ঠা ৩-৫)। এ ছাড়াও বরিশাল জোনে ১৮টি ক্লোজার নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি ক্লোজারের মধ্যে ১৬টির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে (বিস্তারিত পৃষ্ঠা ৬-৭)। এ সপ্তাহে আরও একটি ক্লোজারের কাজ সম্পন্ন হবে।
অপরদিকে, পোল্ডার সমূহের কম ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামোসমূহ আইলার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিমিত্তে পুনর্বাসনের জন্য অতিরিক্ত (৬০০.০০-১৭৫.০০) =৪২৫.০০ কোটি টাকার ডিপিপি পাউবোতে প্রণয়নাধীন রয়েছে।
২। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট কার্যক্রম ঃ
আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ পাউবোর অঞ্চলসমূহে বিদ্যমান ৩টি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট দক্ষিণ-পশ্চিম এরিয়া সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (ইডিডিআরপি), ওয়ামিপ ও ইসিআরআরপি প্রকল্পভূক্ত পোল্ডার সমূহও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর অবকাঠামোসমূহ পুনর্বাসনের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবি ২৫.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা (ডগওচ $ ৯.৫৮৬ মিলিয়ন, ঊঈজজচ $ ৮.০০ মিলিয়ন, ঝডঅওডগচ (ঊউউজচ) $ ৭.৬১ মিলিয়ন) ঋণ সহায়তার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্র“ত অর্থ সহায়তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ডিপিপি পূনর্গঠন করতঃ ক্ষতিগস্থ অবকাঠামোসমূহ পূনর্বাসনের কাজ উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ম-কানুন অনুসারে অগ্রসরমান আছে।
গ। দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রমঃ
এ কার্যক্রম নুন্যতম ৫ বছর মেয়াদী হবে। এ কার্যক্রমের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকুলীয় এলাকার সকল পোল্ডারের বাঁধ সমূহ ভবিষ্যত ১০০ বছরের সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, যথাযথ কমপ্যাকশন ইত্যাদি  বিবেচনায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ২০০-৩০০ মিটার প্রস্থে সামুদ্রিক দিকে প্যারাবন (সধহমৎড়াব ভড়ৎবংঃ) বেষ্টনি সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহের সী-ডাইকের সামুদ্রিক দিক সিসি ব্লক দ্বারা আরমারিং এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বেষ্টনী তৈরী করতে হবে। অধিকন্তু বাঁধ, রাস্তা, খাল,  রেগুলেটর / স্লুইস ইত্যাদি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে করতে হবে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের দ্বারা মূল ভূখন্ডের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। এ কাজগুলি বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে করতে হবে। উলে­খিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রেখে দীর্ঘ মেয়াদী কার্যক্রমের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় “ঞবপযহরপধষ  ্ ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু ধহফ উবঃধরষবফ উবংরমহ ভড়ৎ ঈড়ধংঃধষ ঊসনধহশসবহঃ ওসঢ়ৎড়াবসবহঃ চৎড়মৎধসসব (ঈঊওচ)” শীর্ষক সমীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ঈড়হংঁষঃধহঃ নিয়োগ করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন ডিজাইন প্রণয়নপূর্বক বাঁধ নির্মাণের জন্য উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ চৎড়ঢ়ড়ংধষ (উচচ) প্রণয়ন করা হবে।
উলে­খ্য, আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো মেরামত/পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাপাউবোর্ডকে সহায়তা করার নিমিত্তে গত ১৬ই মাচর্, ২০১০ তারিখ হতে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের পোল্ডার ৭/১ ও ১৫ তে সেনাবাহিনীকে এবং খুলনার দাকোপের পোল্ডার ৩২ ও কয়রার পোল্ডার ১৩-১৪/২ ও ১৪/১ এ নৌবাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে। এতে করে ঠিকাদারী কাজের চলমান ব্যবস্থাপনায় গতির সঞ্চার হয়েছে।
২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ‘আইলায়’ ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো পুনর্বাসন কাজের সমস্যাসমূহ ঃ
১। জোয়ারভাটার কারণে শ্রমিকরা দৈনিক সর্বমোট ৪ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারে না।
২। চারিদিকে পানি থাকার দরুন প্রকল্প এলাকার আশেপাশে শ্রমিকেরা থাকতে পারছে না। দূর থেকে ট্রলারে করে শ্রমিক আনা নেয়া করতে হয়। উলে­খ্য, পূর্বে ৫০০ টাকা অগ্রিমে শ্রমিক পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রতি শ্রমিকের অগ্রিম বাবদ অধিক হারে টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ঠিকাদারগণ ঝুকিপূর্ণ মনে করছে। ফলে কম সংখ্যক শ্রমিকের কারণে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যবহত হচ্ছে।
৩। একই সংগে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় ব্যাপক হারে মাটির কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কাজের অগ্রগতি ব্যবহত হচ্ছে।
৪। স্থানীয় ও বহিরাগত শ্রমিকের মধ্যে পারস্পারিক বিরোধের কারণেও কাজের অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে।
৫। মাটির কাজে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের খাবার পানির অভাবেও কাজের অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় আইলায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও এর মেরামত কার্যক্রমের বিবরণী ঃ
১। আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ পোল্ডার সমূহ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল) ঃ
১। সাতক্ষীরা জেলা = ৯টি পোল্ডার।
২। খুলনা জেলা = ২৪টি পোল্ডার।
৩। বাগেরহাট জেলা = ১০টি পোল্ডার।
৪। যশোর জেলা =  ২টি পোল্ডার।
৫। গোপালগঞ্জ জেলা =  ২টি পোল্ডার।
মোট ঃ= ৪৭টি পোল্ডার
২। ক্ষতিগ্রস্থ ৪৭টি পোল্ডারের ঃ
মোট এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মোট বাঁধের পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো
৬.০০ লক্ষ হেক্টর ১.৮৮ লক্ষ হেক্টর ২০০০ কিমি বাঁধ    পূর্ণ = ১২২ কিমি
আংশিক        = ৬১১ কিমি
স্লুইস          = ১৩২ টি
৩। ২০০৮-০৯ সালে মেরামত কার্যক্রম ঃ
ক) বন্যামুক্ত/লবণ পানি প্রবেশ রোধ = ৪১টি পোল্ডার।
খ) বন্যামুক্ত/লবণ পানি প্রবেশ রোধ করা যায়নি = ৬টি পোল্ডার (সাতক্ষীরায় পোল্ডার = ৭/১, ৭/২ ও ১৫ এবং খুলনায় পোল্ডার  = ১৩-১৪/২, ১৪/১ ও ৩২
গ) বাঁধ পুনঃ নির্মাণ ঃ পূর্ণ = ৮৬ কিমি
      আংশিক = ৯৬ কিমি
     ঘ) ব্যয়িত সম্পদ ঃ     খাদ্যশস্য = ৯৩৭০ মেঃ টন
          অর্থ = ১৬৬৯.৬০ কোটি টাকা
৪। ২০০৯-১০ সালে গৃহীত কার্যক্রম ঃ
ক) ক্লোজার = ৩০টি চুক্তিমূল্য = ১৮৯৪.২৪ লক্ষ টাকা।
খ) বিকল্প বাঁধ = ৪৮.১০ কিমি চুক্তিমূল্য = ১৪৩৫.৬৫ লক্ষ টাকা।
গ) রিং বাঁধ = ৪৭.৭০ কিমি চুক্তিমূল্য = ১৯৬৪.৭৬ লক্ষ টাকা।
ঘ) বাঁধ মেরামত = ১৬২.২২ কিমি চুক্তিমূল্য = ২১৪৩.৮৮ লক্ষ টাকা।
মোট ঃ = ৭৪৩৮.৫৩ লক্ষ টাকা।
দ্রষ্টব্য : ৩০টি ক্লোজার নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হলেও ২১টি ক্লোজার নির্মাণে ঠিকাদার পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে অবশিষ্ট ৯টি ক্লোজারের সম্মুখভাবে ৩৭.৭০ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
৫। ২১টি ক্লোজার নির্মাণের অগ্রগতি ঃ
ক) ৩১.৩.১০ তারিখ পর্যন্ত = ১২টি ক্লোজার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৫টি ক্লোজার বন্ধ করা হলেও ৪টি পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় এবং একটি ৮ দিন পর পুনরায় ছুটে যায়।
খ) একটি ক্লোজারের সম্মুখে রিং বাঁধ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে পোল্ডার অভ্যন্তরে লবন পানি প্রবেশ রোধ করা হয়েছে।
গ) ৩নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৬ পোল্ডারের মধ্যে ইতিমধ্যে ১টি ে পাল্ডার সাতক্ষীরার ৭/২, বন্যামুক্ত/লবণ পানি প্রবেশ রোধ করা হয়েছে।
৬। অনুচ্ছেদ ৩(খ) এ বর্ণিত ৬টি পোল্ডারের বর্তমান অবস্থা ঃ
ক্রমিক নং পোল্ডারের নাম উপজেলা/জেলা মোট এলাকা (হেঃ) আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা (হেঃ) মোট বাঁধের দৈর্ঘ্য (কিমি) স্লুইস/রেগুলেটরের সংখ্যা আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ (কিমি) আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ রেগুলেটরের সংখ্যা ক্লোজার সংখ্যা
পূর্ণআংশিক
পোল্ডার ৭/১
মোট ৩টি ক্লোজারের মধ্যে ১টি নির্মাণে কোন ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এই ক্লোজারের সম্মুখে ২টি খাল বন্ধকরণসহ ৩.০৭ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদার ১টি খাল বন্ধ করতে পারলেও পরবর্তীতৈ তা ছুটে যায়। অন্য খালটি আজও বন্ধ করা যায়নি। ২টি ক্লোজারের মধ্যে ১ জন দুইবার ব্যর্থ হয়েছেন। বন্ধ করার পর ছুটে গিয়েছে। অন্যজনের অগ্রগতি মন্থর। তবে সম্মুখে রিং বাঁধ দেওয়া আছে।
পোল্ডার ৭/২
মোট ১ট ক্লোজারের মধ্যে ১টি নির্মাণ করা হয়েছে। পোল্ডারটি বন্যামুক্ত।
পোল্ডার ১৫
মোট ৬ট ক্লোজারের মধ্যে ১টি নির্মাণে কোন ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এই ক্লোজারের সম্মুখে ২টি খাল বন্ধকরণসহ ৩.৪৫ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কার্যাদেশ প্রাপ্ত ৩ জন ক্লোজার নির্মাণ ঠিকাদার ব্যর্থ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ তিনটি ক্লোজারের সম্মুখে রিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু এলাকা বাদে পোল্ডারটি বন্যামুক্ত।
পোল্ডার ১৩-১৪/২
মোট ৬টি ক্লোজারের মধ্যে ২টি নির্মাণে কোন ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এই ক্লোজারের সম্মুখে ৪টি খাল বন্ধকরণসহ ৪.৭০ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ৪টি ক্লোজারের মধ্যে ৩টি বন্ধ করা হয়েছে। ১টি আগামী ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
পোল্ডার ১৪/১
মোট ৭টি ক্লোজারের মধ্যে ১টি নির্মাণে কোন ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এই ক্লোজারের সম্মুখে ৬টি খাল বন্ধকরণসহ ৪.৮৯ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৬টি ক্লোজারের মধ্যে ৪টি বন্ধ করা হয়েছে। ১টি আগামী ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অন্য একটি দুইবার বন্ধ করার পর ছুটে যায়। পরবর্তীতে ৪টি খাল বন্ধকরণসহ ১.০৬৭ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
পোল্ডার ৩২
মোট ৭টি ক্লোজারের মধ্যে ৪টি নির্মাণে কোন ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এই ৪টি ক্লোজারের সম্মুখে ১১টি খাল বন্ধকরণসহ ২৫.৫২৫ কিমি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩টি ক্লোজারের মধ্যে ১টি বন্ধ করা হয়েছে। ১টি আগামী ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অন্য একটি দুইবার বন্ধ করার পর ছুটে যায়।
৭। ক)  আগামী ১৫ই এপ্রিল, ২০১০ এর মধ্যে অবশিষ্ট ৪টি পোল্ডারের (৭/১, ১৫, ১৩-১৪/২, ১৪/১) লবণ পানি প্রবেশ রোধের  সার্বিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
খ) আগামী ৩০শে এপ্রিল ২০১০ এর মধ্যে পোল্ডার ৩২ এ লবণ পানি প্রবেশ রোধের  সার্বিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
* পোল্ডার সমূহের বিবরণ ঃ
জেলা উপজেলা পোল্ডারসমূহ
সাতক্ষীরা দেবহাটা,আশাশুনি, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ১, ৩, ৫, ১৫, ২ এবং ২ স¤প্রসারণ, ৪, ৬-৮ এবং ৬-৮ স¤প্রসারণ, ৭/১, ৭/২
খুলনা কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া ১৩-১৪/২, ১৪/১, ৯, ১০/১২, ১৬, ১৮/১৯, ২০, ২০/১, ২১,. ২২, ২৩, ৩০, ৩১, ৩১ (অংশ), ৩২, ৩৩, আমিরপুর-ভান্ডারকেটি, খুলনা শহর রক্ষা, ২৯, ১৭/১, ২৬, ২৮/২, ২৫ ও বাবরাকপুর, দিঘলিয়া।
বাগেরহাট বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, রামপাল, ফকিরহাট, মোল­াহাট, কচুয়া। ৩৪/১, ৩৪/৩, ৩৫/৩, ৩৬/১, নাজিরপুর, যৌখালী, গাবখালী, দৈবজ্ঞহাটী, বেমর্তা।
যশোর কেশবপুর ২৪, খুলনা-যশোর নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন প্রকল্প।
গোপালগঞ্জ টুংগীপাড়া, কোটালীপাড়া রামশীল কাফুলাবাড়ী, সাতলা-বাগদা।
২০০৯-২০১০ইং অর্থ বৎসরে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ পাউবো’র অবকাঠামোসমূহের পোল্ডার ওয়ারী পুনর্বাসন কাজের সাপ্তাহিক অগ্রগতির প্রতিবেদন।
(৩১/০৩/২০১০ তারিখ পর্যন্ত)
 জোনের নাম ঃ- দক্ষিণাঞ্চল, পাউবো, বরিশাল।
সার্কেলের নাম ঃ- বরিশাল পওর সার্কেল, পাউবো, বরিশাল।
বিভাগের নাম ঃ- বরগুনা পওর বিভাগ, পাউবো, বরগুনা।
পোল্ডার / প্রকল্পের নাম
(উপজেলা / জেলা) কাজের নাম ঠিকাদারের নাম কাজের পরিমান (দৈর্ঘ্য/ সংখ্যা/ মাটির পরিমান) চুক্তিমূল্য (লক্ষ টাকা) কার্যাদেশ প্রদানের তারিখ সাপ্তাহিক অগ্রগতি ক্রমপুঞ্জিভূত অগ্রগতি মন্তব্য
কাজ সমাপ্তির তারিখবাস্তব (%)আর্থিক
(লক্ষ টাকা) বাস্তব (%) আর্থিক
(লক্ষ টাকা)
১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১
পোল্ডার নং-৪৪
(আমতলী/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে পোল্ডার নং-৪৪ এর কচুপাত্রা দোন ক্লোজার নির্মান  কিঃমিঃ ৫৫.৫০০ এবং এপ্রোচ বাঁধ কিঃমিঃ ৫৫.২০০ হইতে ৫৫.৪৩০ এবং ৫৫.৫৭০ হইতে ৫৫.৬৩০ পর্যন্ত নির্মান। মোঃ শহিদুল ইসলাম
১টি১১৫.৫৭ — নোটিশ অব এওয়ার্ড বাতিল পূর্বক পুনঃ দরপত্র আহবান প্রক্রিয়াধীন
পোল্ডার নং-৪৫
(আমতলী/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে পোল্ডার নং-৪৫ এর জয়ালভাংগা খালে ক্লোজার নির্মান কিমি ২৫.০০। মেসার্স চৌধুরী এন্ড ব্রাদার্স ১টি ৯.০০ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৬০ % খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পোল্ডার নং-৪১/৭বি
( বেতাগী/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে পোল্ডার নং-৪১/৭ বি এর ভোরার খালে ক্লোজার নির্মান কিমি ৩.৪২০ এবং এপ্রোচ বাঁধ কিঃমিঃ ৩.২৪০ হইতে ৩.৪০০ এবং ৩.৪৩৬ হইতে ৩.৪৬৬ পর্যন্ত নির্মান। মেসার্স চৌধুরী এন্ড ব্রাদার্স ১টি ১৪.৫৬ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৭৫% খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পোল্ডার নং-৪০/২
(পাথরঘাটা/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে পোল্ডার নং-৪০/২ এর  জ্ঞানপাড়া খালে ক্লোজার নির্মান কিমি ১৬.৫৫০। মোঃ বশির উদ্দিন ১টি ৪৩.২৪ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৭০% খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পোল্ডার নং-৩৯/২এ
(বামনা/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে পোল্ডার নং-৩৯/২এ এর বামনা খালে ক্লোজার নির্মান কিমি ৭.০০০ এবং এপ্রোচ বাঁধ কিঃমিঃ ৬.৯৩৫ হইতে ৬.৯৭৫ এবং ৭.০২৫ হইতে ৭.০৫৫ পর্যন্ত নির্মান। মেসার্স চৌধুরী এন্ড ব্রাদার্স ১টি ১৬.৫২ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৬৫% খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পোল্ডার নং ৩৯/১ডি
(বামনা/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে কিমি ১.২০০ তে পোল্ডার নং-৩৯/১ডি   কড়ইতলা খালে ক্লোজার নির্মান। মেসার্স শহিদ  ব্রাদার্স ১টি ৬.৮৭ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৭০% খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পোল্ডার নং ৩৯/১ডি
(বামনা/ বরগুনা) ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরে কিমি ৫৫.৭১৮ তে  পোল্ডার নং-৩৯/১ডি  এর দক্ষিন খোলাপটুয়া খালে ক্লোজার নির্মান। মেসার্স আখি কনস্ট্রাকশন ১টি ৬.৮৭ ১০/০২/২০১০
১৫/০৫/২০১০ ১৫ % ৭৫% খালের প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
বরগুনা পওর বিভাগ মোট ঃ২১২.৬৩
(২৫শে মে, ২০০৯) | http://www.bwdb.gov.bd/docs/Aila%20website.doc

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top