মেঘ রোদ্দুর কুয়াশার লুকোচুরি

24-jampui2-1.jpg

গৌরাঙ্গ নন্দী

২৭ মার্চ ২০১৭। সকাল সাতটা। কাঠমান্ডুর ভবনগুলোয় ছাদে তখন হালকা রোদের আভা। তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাংলাদেশের তুলনায় ঠান্ডা। রাতে তাপমাত্রা আরও কমিয়ে শীতের আমেজ জানান দেয়। বেলা ৯টার সময় ইলিশ বিষয়ক এক পরামর্শ সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রধানত: বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা এই সভায় যোগ দেবেন। সেখানে সবেধন নীলমণি আমি একজন সাংবাদিক। আয়োজক আইডবিøউএ (দি ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার এসোসিয়েশন) হতে যখন এই সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাই, তখন সম্মতি জানাইনি। দ্বিধা ছিল, বিশেষজ্ঞদের ওই বৈঠকে গিয়ে কি করবো! খুলনা হতে আরও একজন যখন সেখানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন আমিও রাজি হই। একেবারে শেষ পর্যায়ে সম্মতি জানানোয় যাওয়া-আসার টিকিট নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হয়। বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের নির্ধারিত বিমানটি হেরফের হওয়ায় বৈঠকটি শুরুর সময় পিছিয়ে দেয়া হয়। হিসাব করে দেখা যায়, দিনের সকাল বেলায় ঘন্টা চারেক সময় আছে। আর সেই সময়টি কাজে লাগানোর জন্যে কাঠমান্ডুর রাস্তায় নামা।
নারায়ন হিতি প্যালেসের উঁচু প্রাচীরের পাশ দিয়ে যাওয়া চওড়া ফুটপাত দিয়ে হাঁটছি। প্যালেসটি এখন জাদুঘর। আগে এখানে রাজারা বাস করতেন। নেপালের শেষ রাজা ও তার পরিজনেরা এখানেই দু:খজনকভাবে হত্যার শিকার হন। এখন গণতান্ত্রিক শাসন কাল। রাজার কাল অতীত। তবে রাজাদের বাসভবনটি রক্ষা করে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাঁটছি আর টেক্সি দেখছি। মনে মনে ঠিক করি ভক্তপুর যাবো। একাধিক জনের সাথে কথা বলে অবশেষে দিপক নামের এক চটপটে ট্যাক্সিচালককে পাওয়া গেল। দিতে হবে বারোশ’ নেপালি রুপি। তিনি আমাদের ভক্তপুর দরবার স্কয়ারে এক ঘন্টা সময় কাটানোর সুযোগ দেবেন। এরপর আবারও ফিরিয়ে আনবেন এখানে। আমার সঙ্গী অুনজপ্রতীম খুলনার মাকসুদ। পরিবেশ বিষয়ে নানা কাজ করেন। নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। নেপালে তার এই প্রথম যাওয়া। সময়স্বল্পতা ও একটানা সভা থাকায় শুরু থেকেই তার কণ্ঠে আফশোসের নানা সুর ছিল। নেপালে কি কোথাও যাওয়া হবে না! ঘুরতে পারবো না! পাহাড় দেখা যাবে না! নেপাল থেকে পাহাড় না দেখে ফিরে যাবো!
বিমানের সময় পাল্টে যাওয়ায় আচমকা পাওয়া সময়টি পুরোপুরি কাজে লাগানোর যারপরনাই চেষ্টা। টেক্সি এগোয়। আমি দিপককে বলি, আপনি কি আমাদের নগরকোট ঘুরিয়ে আনতে পারবেন! ভক্তপুর হয়েই নগরকোট যেতে হয়। তিনি রাজি। টাকা দিলেই তিনি আমাদের ঘুরিয়ে আনবেন। আশ্বস্ত করলেন, আসার সময় ভক্তপুর দরবার স্কয়ারেও ঘুরিয়ে আনবেন। সবমিলিয়ে চারঘন্টা সময় হলেই হবে। তাঁকে দিতে হবে চার হাজার রুপি। আমরা ঝুঁকি নিলাম। এই আলাপচারিতা চলতে চলতেই আমরা কাঠমান্ডু ছাড়িয়ে দশ কিলোমিটার দূরের ভক্তপুরে পৌঁছে গেছি। নগরকোট যাবো বলতে দীপক ডাইনে দরবার স্কয়ারের পথে না গিয়ে সোজা নগরকোটের পথে যাত্রা শুরু করে।
কাঠমান্ডু হতে ভক্তপুর মোটামুটি সমতল রাস্তা। বেশ পরিষ্কার। ঝকঝকে। পাশে বড় ফুটপাত। রাস্তাটি মোটামুটি সোজা, সামান্য আঁকাবাঁকা, কখনও কখনও সামান্য উঁচু-নীচু। কিন্তু ভক্তপুর হতে নগরকোটের দিকে যেতেই উঁচু-নীচু বাড়তে থাকে। সামান্য এগুলেই বোঝা যায় আমরা উঁচুতে উঠছি। আঁকাবাঁকা সর্পিল রাস্তা পাহাড়ের গা ঘেঁষে। একদিকে উঁচু পাহাড় টিলা, অন্যদিকে ঢালু, কোথাও আবার গভীর খাদ। কখনও কখনও ঢালু বেশ চওড়া; খানিকটা জায়গা নিয়ে সমতল ভূমির মত। সেখানেই ছোট ছোট বাড়ি। বসতি। গ্রাম। সবজি ক্ষেত। আরও একটু বিস্তৃত সমতলে শস্য ক্ষেত। মনে হল যব-এর শীষ বাতাসে ঢেউ তুলছে। পাশের বাড়িগুলোর দু-একটি বাদে কোনটিতেই বারান্দা নেই। রাস্তার পাশে, পাহাড়ের ঢালে বাড়িগুলোরও একই অবস্থা। কোন কোন বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা সামনেই ভূমিতেই বসে আছে। কেউ কোন কাজ করছেন। আর দূরে লম্বা গাছের সারি। পাহাড়। কুয়াশার আঁধার। সূর্যের আলোর ছটা। দু’একজন নেপালী নারীকে দেখলাম পিঠের ওপর পণ্যের বোঝা ফেলে কোমর হতে উপরের অংশটি ধনুকের মত বাঁকিয়ে সন্তর্পণে এগিয়ে চলেছেন।
ট্যাক্সির জানালা পথে সকালের মিষ্টি রোদ মেখে হিমেল বাতাস চোখে-মুখে আছড়ে পড়ছিল। অদ্ভুত এক শিহরণ। বেশ ভালোলাগা। ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা ছিল। উপরে উঠছি। এভাবেই ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পেরুনোর সাথে সাথে উপরে ওঠা। প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার উঁচুতে। তারপরই দেখা মিলবে ওয়াচ টাওয়ার। ভূমি থেকে অনেক উপরে। কখনও কখনও খাদের কিনার বেয়ে রাস্তা উঠেছে। ডাইনে নীচু, ধাপে ধাপে সাজানো, আবার খাদ। আবার কখনও রাস্তার দুপাশেই ফাঁকা। কোনদিকে তাকাই! ডাইনে না বাঁয়ে! দু’পাশেই যে দূরে দূরে গ্রাম। নানা রঙের ঝলকানি। নতুন নতুন বাড়ি হয়েছে, সেখানে আলোর বিচ্ছুরণে চোখ ধাঁধাঁনো দশা। ২০১৫ সালের এপ্রিলে নেপালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের জেরে কাঠমান্ডুর ত্রিশ-পয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরেও যে ভালোই আঁচ লেগেছিল। ছোট ছোট বাড়ি-ঘরগুলো মাটিতে মিশে যায়। সেসব জায়গায় নতুন বাড়ি-ঘর উঠেছে। ছোট ছোট। তবে যারাই পারছেন তারা ইটের গাঁথুনি দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর গড়ে উঠছে চারতলা, পাঁচতলা ভবন। বেশ কারুকার্যখচিত। বোঝাই যায়, পর্যটক আকর্ষণের জন্যে এসব ভবনগুলো তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা, পুঁজি লগ্নিকারকরা।
প্রকৃতির টানে নেপালে প্রচুর মানুষ আসে। আশে-পাশের দেশগুলো থেকে যেমন, তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ভীড় করে নেপালে। মানুষ যাতে আসতে পারে সেকারণে এরা বিদেশীদের জন্যে নিয়ম-কানুনগুলো অনেক সহজ করেছে। পর্যটন খাত হচ্ছে নেপালের জাতীয় আয়ের একটি বড় খাত। পর্যটকদের জন্যে সুযোগ-সুবিধাও ব্যাপক। নেপালে যেতে চাইলে ভিসার প্রয়োজন নেই। বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তার কাছে পাসপোর্টটি দিলেই হলো। সাথে তাদের একটি আবেদন ফরম পূরণ করে দিতে হয়। সেখানে অতি সাধারণ গুটিকয়েক তথ্য। তবে কোথায় থাকবেন, সেই ঠিকানাটি লিখতে হয়। আপনি একটি হোটেলের ঠিকানা লিখে দিলেই চলবে। আমি পাসপোর্টটি জমা দিলে কর্মকর্তাটি জানতে চান, ক’দিন থাকবেন। আমি বলি তিন দিন। আরও বলি, আমাকে সাত দিনের ভিসা দিলেই চলবে। তিনি বলেন, না, আমি আপনাকে পনেরো দিনের ভিসা দিলাম। বলে একটি সিল দিয়ে পাসপোর্টটি ফিরিয়ে দিলেন। বলতে গেলে চোখের নিমিষেই ভিসা মিলল। সকলের ক্ষেত্রেই তাই। তবে এক পঞ্জিকা বছরে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) দ্বিতীয়বার গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হয়। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্যে ফি একরকম; অন্যান্য দেশগুলোর জন্যে ফি অন্যরকম। নেপাল কর্তৃপক্ষ এর পরিমাণ নির্ধারণ করে আগেভাগে জানিয়ে দেন। পাসপোর্ট নিয়ে লাগেজ খুঁজতে গিয়ে যথাস্থানে গিয়ে দেখি সেটি গড়াগড়ি খাচ্ছে।
আর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর! কি আর বলি তার কথা! আকারে ছোট। আমাদের শাহজালাল বিমানবন্দরের তিন ভাগের এক ভাগও হয়তো হবে না। একমুখো। দুই পাহাড়ের মাঝে সমতল জায়গা। এখানে নিয়মিত বিমান জট লেগে থাকে। বিমানের ট্রাফিক জ্যাম। বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা সবসময় বিমান নামার অনুমতি দিতে পারেন না। বিমানকে আকাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়। যাওয়ার দিন ২৬ মার্চ আমাদের বহনকারী বিমানটিকে ৩৫ মিনিট আকাশে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার ২৮ তারিখেও একই বিমান এক ঘন্টারও বেশী সময় আকাশে চক্কর দিয়ে তবেই নামার ছাড়পত্র পেয়েছে। আর একই সাথে সাতটি বিমানের যাত্রী ওঠানো। পনেরো মিনিট পরপর বিমানের ওঠানামা। অপেক্ষমান যাত্রীদের বসার জায়গা নেই। অনেক যাত্রীকে হেঁটে বেড়াতে হয়। অনেক যাত্রী অপেক্ষা করেন, কেউ একজন বসার জায়গা থেকে উঠলেই সেই জায়গাটি আর একজন দখলে নেন। নেপালে ঘোরাঘুরির নানান জায়গা। ঘোরাঘুরিতেও চমৎকার পরিবেশ। আপনাকে কেউ ইচ্ছা করে ঠকাবে না। ট্যাক্সিচালকরাও আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে।
দিপকও তাঁদের একজন। তার বাড়ি কাঠমান্ডু শহর থেকে ষাট কিলোমিটার দূরে। বয়স ত্রিশের কোঠায়। বছর পাঁচেক ট্যাক্সি চালায়। আমরা দু’পাশে তাকাই। দিপকের ট্যাক্সি আমাদেরকে নিয়ে উঁচু থেকে উঁচুতে যেতে থাকে। আমি বলি, ধীরে চালান। তিনি আমাকে অভয় দেন। কোন সমস্যা নেই। রাস্তা আরও বড় হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্র দিয়ে পাহাড়ের টিলা কাটা হচ্ছে। টিলার পাশে ইটের গাঁথুনি দেয়া হচ্ছে। পানি সরে যাওয়ার জন্যে নালা তৈরি হচ্ছে। আর বাঁকে বাঁকে ঘুরে ঘুরে দিপকের ট্যাক্সি আমাদেরকে উপরে নিয়ে যেতে থাকে। যেখান থেকে ঢালের গ্রামগুলো আরও ছোট হয়ে যায়। নীচুতে নেমে যায়।
নগরকোট অনেক বড় জায়গা। আছে বসতি। বাজার। সরকারি অফিস। পর্যটকদের জন্যে অতিথিশালা। এভারেস্ট দেখার জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা। সারি সারি দূরবীণ। সকালের সূর্য ওঠা দেখতে চান, সে ব্যবস্থাও আছে। আমাদের লক্ষ্য ওয়াচ টাওয়ার। একটি জায়গায় গিয়ে ট্যাক্সি থামে। সেখানে নামিয়ে দিয়ে দিপক বলে, এখানে ট্যাক্সি থাকবে। আপনারা ওই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যান। সেখানে আরও উঁচুতে টাওয়ার আছে। উঁচুতে উঠে চারপাশটা দেখুন। ছবি তুলুন।
আমি দেখি প্রায় চারতলা সমান সিঁড়ি। ওই সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। ট্যাক্সি থেকে নামতেই বেশ শীত অনুভূত হয়। মনে হয় তাপমাত্রা দশের নীচে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠি। উঠতে থাকি। দু’পাশে ঘন বন। উঁচু উঁচু লম্বা গাছ। শরীরে হিমেল হাওয়ায় ঝাপটা। গায়ে কেমন যেন কাঁপুনি ওঠে। নিজেকে ভীষণ বোকা মনে হয়, কেন শীতের কাপড় আনিনি। সিঁড়ি ভেঙ্গে ওপরে, চূড়োয় উঠি। একটি হেলিকপ্টার অনায়াসে নামতে পারে এমনি একটি প্রশ্বস্ত জায়গা। শীতল বাতাস স্বাগত জানায়। অন্ধকার। হঠাৎ করেই যেন সূয্যি মামা উধাও হয়ে গিয়েছে। কোথায় আলো! এযে আঁধার! আমারতো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে। দম আটকে যাওয়ার দশা! মনে হয়, এই বুঝি আমি মাটিতে পড়ে যাবো। মনে মনে ভাবতে থাকি, এখানে এমন অবস্থা হলে চলবে না; দাঁড়িয়ে থাকি। জোরে জোরে শ্বাস নিই, ছাড়ি। বুক ফুলিয়ে দম নিতে থাকি। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। দূর আকাশে দেখি দুটো পাখি উড়ছে। এতো উপরে পাখি! কোন পাখি! হয়তো চিল। তাদের মধ্যে কেমন যেন অস্থিরতা! একটি নির্দিষ্ট জায়গা জুড়ে তারা উড়ছে। তবে কি ঝড় উঠবে! বৃষ্টি! প্রকৃতির কোন অস্থিরতা কি পাখিগুলো আমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছে!
একি আমি যেন আরও আঁধারে ডুবে গেলাম। পরে বুঝতে পারি আমাকে মেঘে ছেয়ে ফেলেছে। ঠান্ডার ঝাপটা দিয়ে মুহূর্তেই সরে গেল। হাতের ফোনে ছবি তুলতে গিয়ে দেখি, কিছুই বোঝা যায় না। অষ্পষ্ট। কুয়াশা-মেঘে সবকিছু আঁধারে ছেয়ে ফেলেছে। দূরে দেখি আলোর ঝলকানি। একটি ভবন। বেশ রঙ্গিন। সূর্যের আলোয় বিচ্ছুরিত। অথচ আমাকে ঘিরে রেখেছে কুয়াশা। একি কুয়াশা, না-কি মেঘ; না-কি দুইয়ের মিশ্রণ!
ততোক্ষণে সঙ্গী মাকসুদ আরও উপরে উঠে ওয়াচ টাওয়ারে চোখ রেখেছে। আমাকে ডাকছে। আমি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, হাতের ইশারায় তাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে বলি। সে বিচলিত হয়। বলে, কোন সমস্যা? খারাপ লাগছে? আমি তখন বলি, আমি পরে উঠবো, চারপাশটা দেখে নিই। তিনি আশ্বস্ত হন। চারিদিকে চোখ রাখে। বেশ পরে আমিও উঠি। চারপাশে তখন অপার বিস্ময়। প্রকৃতির অন্যরকম অনন্য রূপের ঝলকানি। এই আঁধার, এই আলো, আরও দূরে আলোর ঝলকানি। থরে থরে গিরিখাদ, ঢাল। ঢালের সমতলে বসতি। কুয়াশা-মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি।
নজরে আসে একটি ফলক। তাতে লেখা রয়েছে স্থানটি ১৪২ কিলোমিটার উঁচু। এখানেই নগরকোটের ওয়াচ-টাওয়ার। আরও আছে মাধ্যকর্ষণ চাপের নির্দেশক ফলক। যেখানে আপনি আপাত: উঁচু স্থানে, চারপাশটি নীচু। অদ্ভূত রকমের নীরবতা। চকিত পাখির ডাক। বাতাসের শব্দ। মেঘ-রোদ্দুর-কুয়াশায় সিক্ত হয়ে আবারও এঁকে-বেঁকে নেমে আসা। #
লেখক: সাংবাদিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top