ভয়াবহ বন্যায় মৃত ৫১

Bangladesh_Flood_and_Landslide_Crisis-1-scaled.png

বন্যা পটরিস্থিতি ১২ জুলাই ২০২৬

থার্ডআই ডেস্ক

বাংলাদেশ এক ভয়াবহ মৌসুমী বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হয়েছে। ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এই দুর্যেোগে দশ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা ৫১ জনে উন্নীত হয়েছে। এই অবস্থাটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, যা তীব্র স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা থেকে উজানে বিপুল পরিমাণে পানি ছাড়ার সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে।  যদিও দক্ষিণের নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পানির স্তর কমতে শুরু করেছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বের অন্যান্য অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে; যদিও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে ত্রাণ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিকুলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত জেলাসমূহ: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের উভয় প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; যার মধ্যে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জলাবদ্মধতা দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু ও দলু নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার, স্কুল এবং কৃষি জমি ডুবে গেছে। অনেক ইউনিয়নে নৌকাই এখন পরিবহনের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
নদী ব্যবস্থা দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেট বিভাগের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর বাড়ছে, যা নিচু বাঁধগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। মেঘালয় ও আসামের অববাহিকায় একটানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগামী অন্তত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা এই অঞ্চলে চাপ বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল  তথা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ বেশ কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) সতর্কতা জারি করেছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর বিপদসীমা অতিক্রম করার পূর্বাভাস রয়েছে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলো আরও প্লাবিত হতে পারে।
ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে সরকার বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে মোতায়েন করেছে। মানবিক সহায়তার জন্যে ইতিমধ্যে নগদ ৪. কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ধ্বংসের ফলে অসংখ্য গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ঔষধ এবং শিশু পুষ্টির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top